শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ভালোবাসায় পূর্ণ করেছো

 ধরেছো আমার বাহু,জড়িয়েছো বুক
 লতা গুল্ম জড়ায় যেমন পল্লবে
পল্লবও জড়িয়ে থাকে লতা গুল্মে
তুমিও তেমনি বে্ধেঁছো হাত আমার হাতে।

আজন্ম সোহাগ লালন করে শুয়েছো শয্যায়
ভালোবাসায় বুদ করে রেখেছো- মধু সময়
ঝড়ের বাতাস এসে থেমে যায় লতায়
তুমিও তেমনি থামালে হৃৎকম্পন আমার বুকে,
আমাকে তুমি বে্ঁধে রেখেছো হৃদয়ে-                                                                                                          ভালোবাসায় পূর্ণ করেছো আমার হৃদয়।






ভালোবাসা দিবস

 ভালোবাসা দিবস বলতে একসময় কিছু ছিলো না। আজ অতীত হাতড়ে শিহরিত হই এই ভেবে যে, ফাল্গুন মানে তখনো ভালোবাসা ছিলো ।ভালো লাগার অনুভূতিঝ ছিলো। মনে পড়ে বসন্তের সাথে জড়িয়ে থাকা কান্নাভেজা চোখ, না পাওয়া প্রেম, পাওয়ার আনন্দ, ভালবাসায় ছুঁয়ে দেওয়া হাত, প্রথম শিহরণ,, অকথিত প্রেম।
বসন্ত এতো মোহময়, এতো সুরভিত, এতো উন্মাতাল।সমস্ত সুঘ্রাণ,সমস্ত সৌন্দর্য আর সমস্ত রূপের মিলিত অবয়বই যেনো এই মধুর বসন্ত।


ভৈরবী

এই গ্রাম, মাটি, জল, রূপকথা— সবই গান। সবুজ শস্যের উপর যে বাতাস সুসংবাদ বয়ে আনে তাও তো গান। ওই যে দুটি শালিক ঠোঁটে ঠোঁট, গান ভ’রে দিচ্ছে হৃদয়ে, তাদের একটি কোমল ধৈবত আর একটি নিখাদ। টিউশানি পড়ে ফেরার পথে সরু অন্ধকার গলিতে যে প্রেম মুখ লুকায় তা মন্দ্র সপ্তকে বাঁধা। বাড়ি ফিরে রাতে ভূগোল বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে পড়া চিঠি তবে কৌশিকধ্বনি।
যে ছেলেটি, চিনতে পারছে সুরের চলন। সুর তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ছেলেটি পিছুটানহীন চলে যাচ্ছে তার পিছু পিছু। কোথায়, কতদুরে, কোন দিগন্তের কোনও পথভোলা কিশোরীর কাছে আলোকনির্মিত গানের স্কুলে সে শিখতে যাচ্ছে কীভাবে সুর হাসায়, কাঁদায়, ক্ষমা করে, ভালবাসে। আজ, ছেলেটির এই অনায়াসে চলে যাওয়ার নাম হোক ভৈরবী।

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

যতোদূরেই যাও

দূরে বহুদূরে চঞ্চল মেঘের মাঝে আকাশ ছাড়িয়ে ভেসে যাও।ব্যাপ্তিও ছড়াও ঐ দূরালোকে।আমি গভীর গহনে আবর্তিত হই একাকী ভূবন মাঝে।তুমি যতোদূরেই যাও,আমার ভূবনেই তুমি ব্যাপ্ত হয়ে আছো।

সানফ্লাওয়ার

সে ছিলো মধ্যবয়সী এক রমণী।শরীরের বাঁকে বাঁকে জমে গেছে রেখা।মেকআপের নীচে দেখি পরিচিত তিল।সিঁড়ি দিয়ে উঠে যাই দোতালায়।সুপারহিট ম্যাটেনী শো।সোফিয়া লরেনের সানফ্লাওয়ার।অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহ।সুনসান নিরবতা।ভয়ে ত্রস্ত হলাম,সোফিয়ার চুুলের কাঁটা গিলে ফেললো মার্শেলো।
ঝুঁকে পড়ে রমণী।আমার হাত থেকে ক্লাশ পালানো বই খাতা নীচে পড়ে যায়।কলমটাও হারিয়ে ফেলি অন্ধকারে।কাটতে থাকে রোমাঞ্চ সময়।ম্যাটেনী শো শেষ হয়।সিঁড়ি ভেঙ্গে নীচে নেমে আসি।রাস্তায় ব্যস্ত গাড়ীর হর্ণ।বসন্তের ধূলো উড়ছে।বিকালের রোদটাও ঝাঁঝাঁঁ করছে।বিদগ্ধ মাঝ বয়সী রমণী রিক্সার হূট তুলে রামকৃষ্ণ মিশনের দিকে চলে যায়।
ইউনিভার্সিটির হলে শুয়ে আছি। মাথা ঝিম ঝিম করছে।সন্ধ্যাকে মনে করছি মধ্যরাত।ঘুমের ঘোর নাকি,স্বপ্নে আছি ! কে যেনো বলছে- থেমে যাও তরুণ ! নিঃসঙ্গ নারী নাভীতলে মগ্ন হয়োনা।নিঝুম পুষ্প বৃষ্টিতে ভিজিও না।এ সব মায়ার সময় এখন তোমার নয়-
আমি তো দু'হাতে ধরেছি অরণ্য,
বুকের তলায় বেঁধেছি অনেক স্বপ্ন-
বাড়ীতে যাইনা- ছোট বোন অভিমানে তাই বেনী গাঁথেনা
মা পথের দিকে তাকিয়ে থাকে বিমর্ষ চোখে-
নস্ট ঠোঁটের গন্ধ নিতে চাইনা
আলোগুলো মিলাতে চাইনা,কোনো ভ্রষ্ট রক্তের বিন্দুতে।




বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

ঐশ্বর্যময়ী

ওর নাম ঐশ্বর্যময়ী। ওকে চেয়েছিলাম না। আমাদের চাওয়াকে দ্রোহ করে- বিরূদ্ধ স্রোতে ভেসে সে চলে আসে।।সেদিন ছিলো শীতের সন্ধ্যারাত।উত্তরার আইচি হাসপাতালের অপারেশন টেবিলে- এক নবজাতক চিৎকার করে বলে ওঠে- 'আমি আসলাম'।ডাঃ রোমানা বলে- এ দেখছি আপনাদের ঐশ্বর্য।'আমি বলেছিলাম- ও শুধু ঐশ্বর্য নয়, ঐশ্বর্যময়ী'ও।  ঐশ্বর্যময়ী আমাদের ছোটো মেয়ে। আজ ওর জন্মদিন। আসুন না,আমরা সবাই ওকে একটু উইশ্ করি।


রুবী ও অন্যান্য সহপাঠী বন্ধু'রা,

আজ আমার ছোটো মেয়ের জন্মদিন।খুব ইচ্ছা ছিলো তোমাদের মিলন মেলায় যোগ দিতে।কিন্তু পারলাম না।আমার মেয়ের ছোট্ট ভূবন জুড়ে যে আমি।তাই ওর ভূবনেই থেকে গেলাম।
তোমাদের সাথে আবার দেখা হবে- অন্য কোনো মিলন মেলায় অন্য কোনো অনুষ্ঠানে।
শুভ কামনা সবার জন্য।

-------- কোয়েল।

ছুঁয়ে আছো

তুমি ছুঁয়ে আছো- মায়া ছুঁয়ে আছে
প্রেমে মহিমা ছুঁয়েছে,
শরীর ছুঁয়ে আছে,রক্ত মাংস বোধ ছুঁয়েছো
বুকের চারপাশে মুক্তা ঝরেছে
ঠোঁট গন্ধক ফল চেয়েছে
শরীর সংযম মেনেছে,
দূর্লভ অন্তপুরের দরজা খুলেছো
চোখে চেয়েছো, সীমারেখা টেনেছো
মায়া করেছো,নাভিতল নদী হয়েছে
মন ছুঁয়েছো,মেধা ছুঁয়েছে
শুক্লপক্ষের জ্যোৎস্না চেয়েছো
রহস্য শরীর বৃত্তে- যা তুমি ভাঙ্গতে এসেছো।