সোমবার, ৮ আগস্ট, ২০১৬

চর্যাপদের হরিণী

চর্যাপদের হরিণী !সেই সবরীকে কি তোমরা ভুলে গেছো ?
ডঃ লুৎফর রহমান স্যার রস গুরুগম্ভীর উচ্চারণে পড়াতেন---
উঁচা উঁচা পাবত তঁহিঁ বসই সবরী বালী । মোরঙ্গি পীচ্ছ পরহিণ সবরী গিবত গুঞ্জরী মালী ।।  উমত সবরো পাগল শবরো মা কর গুলী গুহাডা । তোহৌরি ণিঅ ঘরিণী ণামে সহজ সুন্দারী ।।  ণাণা তরুবর মৌলিল রে লাগেলী ডালী । একেলী সবরী এ বণ হিন্ডই কর্ণ কুন্ডল বজ্রধারী ।

অর্থাৎ- উঁচু পর্বতে শবরী বালিকা বাস করে। তার মাথায় ময়ূরপুচ্ছ, গলায় গুঞ্জামালিকা। নানা তরু মুকুলিত হলো। তাদের শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত হলো। শবর-শবরীর প্রেমে পাগল হলো। কামনার রঙে তাদের হৃদয় রঙিন ও উদ্দাম। শয্যা পাতা হলো। শবর-শবরী প্রেমাবেশে রাত্রিযাপন করলো।

এই নীল মনিহার

লাকী আখন্দ চলে গেলেন,মৃৃত্যু সীমানার ওপারে।
'এই নীল মনিহার 
এই স্বর্নালী দিনে 
তোমায় দিয়ে গেলাম 
শুধু মনে রেখো '

শেষ হোক এই খেলা.. এবারের মতন/ মিনতি করি আমাকে হাসিমুখে বিদায় জানাও/ আমায় ডেকো না.. ফেরানো যাবে না/ফেরারী পাখিরা কুলায় ফেরে না। গানের কথাগুলো আপনার। লাকী আখন্দ, আপনার কাছে অনুরোধ এ গানটি আপনি এখন গাইবেন না। মনে মনেও না। আপনাকে আমরা ডাকবো।

দীপজ্বালা রাত জানি আসবে আবার 
কেটে যাবে জীবনের সকল আঁধার 
স্মরণের জানালায় দাঁড়িয়ে থেকে 
শুধু আমায় ডেকো ।'

রবিবার, ৭ আগস্ট, ২০১৬

ডঃ আহমদ শরীফ

ডঃ আহমদ শরীফ আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন।আমি ভাগ্যবান এই জন্য যে,তা্ঁর মতো একজন মনিষীকে শিক্ষক হিসাবে পেয়েছিলাম। এই মহান মানুষটি ১৯৯৫ সালে একটি উইলের মাধ্যমে তার মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান করার কথা লিপিবদ্ধ করে গিয়েছিলেন। সে উইলে লেখা ছিল, ‘চক্ষু শ্রেষ্ঠ প্রত্যঙ্গ, আর রক্ত হচ্ছে প্রাণ প্রতীক, কাজেই গোটা অঙ্গ কবরের কীটের খাদ্য হওয়ার চেয়ে মানুষের কাজে লাগাইতো বাঞ্ছনীয়’। তাঁর উইল অনুযায়ী মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য দান করে দেয়া হয়।

তোমার সত্তা

তোমার সত্তা আমরা ভালোবাসার সুবাস নিক,তোমার পায়ের পাতা স্পর্শ করুক যেখানে আমরা হেঁটেছি এক সাথে।আমি চাই আমার মমতার ছোঁয়া লাগুক তোমার দ্রোহে আর ঘৃণায়, আমার সমস্ত গীতিকবিতা যাকে নিয়ে, সেই তুমি, আমার গভীরতম ভালোবাসা নিয়ত পুষ্পিত, পল্লবিত হও।এভাবেই আমার প্রেমের নির্দেশে তুমি স্পর্শ করো আমার সত্তা। আমরা থাকবো না,আামাদের পদচিহ্নগলো থাকুক এই পার্থিবে অনন্তকাল।

শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৬

অবন্তী প্রেম চায়


অবন্তী দাঁড়িয়ে আছে,স্বপ্ননীলের অপেক্ষায়। অবন্তী আজ স্বপ্ননীলের সঙ্গে যাবে লোকাল ট্রেনে কোথাও। অবন্তীর সাধারণ চোখে স্বপ্ননীলের সাধারণত্ব বেঁধে ফেলেছে। অবন্তী প্রেম চায়। আগের মতো, যেমন চাইতো। সেই ফুচকার স্বাদের মতো। স্বপ্ননীলের ভয় করে, কিন্তু নেশা ধরে গেছে।পর্দা ঢাকা কেবিন বা শেষসন্ধ্যায় ঘনিষ্ঠতা শিরায় শিরায় আগুন ধরিয়ে দেয়। পেছনের চুল থেকে এক ফোঁটা স্বেদবিন্দু গড়িয়ে আসে । অবন্তী দেখে, স্বপ্ননীলের সস্তার টিশার্ট আর সস্তার জিনসের ভেতরে সেই স্বেদবিন্দুটা। অবন্তী প্রেম চায়। স্টেশনের বাইরে মাঝবয়সী পান খাওয়া রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞাসা করে,, কোথায় যাবেন ? রিক্সায় ওরা বসে আঁট হয়ে। স্বপ্ননীল হাওয়ায় ওড়ে।অবন্তী প্রেম চায়। রিক্সাওয়ালা বলেছিলো বিকালে আসব নাকি ? স্টেশনে ফিরবেন তো?'। মহুয়া হোটেলের খাতায় নামধাম লেখে অবন্তী। সব কাল্পনিক। হোটেলের বয় ঘরে জল দিয়ে যায় । আর ভাতমাছ দুই প্লেট।।  অবন্তী দরজা বন্ধ করে। স্বপ্ননীল ভয়ে কাঁপে, অবন্তী হাসে, বিকেলের আলোয় জোৎস্না ঝরে, নাকিি শভ্র তুষারপাত! অবন্তী প্রেম চায়।

ভোরের আলোর জন্য


রাতের নির্জনতায় অন্তরমহলের দরজাটা খুলে দিতে মন চায় , অন্তত: নিজের কাছে। তবে কি যা গেছে তা যাবারই ছিল, যা রয়ে গেছে তাই চিরন্তন!  এই তো আছে সে, তার মত করে, হৃদয় ভরে নিয়ে শিউলি আর চন্দনের গন্ধে! আর যা যেভাবেই থাক তার কিছু এসে যায় না!  একঝাঁক তারা টিমটিম করে জ্বলছে, আগে কেন চোখে পড়েনি! তারাদের আলোতে অন্ধকার টা কেটে আসে। এখন শুধু অপেক্ষা, এই মনখারাপের রাত শেষ হওয়ার অপেক্ষা। সে নিজেকে তৈরী করতে থাকে ভোরের আলোর জন্য!

শুক্রবার, ৫ আগস্ট, ২০১৬

শিলিগুড়ির ডুয়ার্স।

শিলিগুড়ির ডুয়ার্স। সমরেশ মজুমদারের কালবেলা বা সাতকাহনের ডুয়ার্স। গরুমারা, চাপরামারি, জলদাপাড়া, গজলডোবা, ঝালংয়ের মতো সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে সেখানে । পাহাড়ের ধাপে-ধাপে উঠে যাওয়া ফার-পাইনের চোখ জুড়োনো সবুজ আর পাহাড়ের মাথায় মেঘ-রোদ্দুরে লুকোচুরি। 
২০০৯ সালে আমি এবং হ্যাপি  শিলিগুড়ি যাই।উদ্দেশ্য ডুয়ার্স ভ্রমন। তিন দিন ছিলাম ।ওখানে আমাদের এক বন্ধু ছিলো, নাম শিশির রায়। শিশিরই গাইড করেছে আমাদের।সমরেশ মজুমদারের কালবেলার জায়গাগুলোতে ঘুরেছি।জয়গা্ঁও,আলীপুর দুয়ার,ময়নাগুড়ি,ফুয়েন্টসোলিং গিয়েছি।জলপাইগুরির চা বাগানের ভিতর দিয়ে আমাদেেের ট্যাক্সি ছুটে চলেছে।ডুয়ার্সের বন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে পথ।গভীর বন পেড়িয়ে আমরা গিয়েছি সেভক পাহাড়ে।সেভক ব্রিজের উপর দাড়িয়ে দূরের পাহাড় দেখেছি। আর পাহাড়ের উপর কালী মন্দির দেখাটাও মিস  করিনি। পুরো ডুয়ার্স যেনো এক অপরূপ রূপের নিসর্গের লীলাভূমি। 
আমি যা দেখেছি তা আমার দু'চোখই কেবল বলতে পারে। 
শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছিলো--
“জংগলে চাঁদের সংগে হেঁটে গেছো কখনো জ্যোস্নায়?
পাতার করাতে চাঁদ ছিন্নভিন্ন হতে দেখেছো কি?
ফুটবলের মতো চাঁদ পড়ে আছে টিলার উপরে-
কখন,গভীর রাতে খেলা হবে,জয়োল্লাস হবে-
এসব মুহুর্তে তুমি জংগলের মধ্যে যেতে পারো|”