আমাদের গ্রামের নেদু ঘোষের কথা এখনো মনে পড়ে। খুব সুন্দর দই,ঘোল,ছানা ,সন্দেশ আর ঘি বানাতো। ভোর বেলায় প্রায়ই যেতাম ঘোল কিনতে। নেদু ঘোষের বউ কাঠের টুল এনে বসতে দিতো। তারপর নেদু ঘোষ প্রথমেই এক গ্লাস ঘোল খেতে দিতো, এটির কোনো পয়সা নিতো না। নেদু ঘোষ এবং তার বউ দু'জনই এখন স্বর্গীয়। তাদের ছেলেরা এখনো আছে এবং ব্যবসাটি ধরেৃ রেখেছ।
তুমি যদি প্র্রেমহীন হয়ে থাকো, মেঘদূতের সম্ভোগের শ্লোক পড়েও যদি নির্বিকার থেকে যাও,যদি না থাকে তোমার রাগ-অনুরাগ-কস্তরীনাভি কোমলগান্ধার, যদি বিহব্বল না হয় তোমার শরীর, রক্তে শোনিতে যদি না ভেজে তোমার পড়নবাস, তাহলে তুমি আমার কবিতা পড়োনা।
মঙ্গলবার, ১৯ জুলাই, ২০১৬
মৃত্যুর সময়
মৃত্যুর জন্য কোন্ সময়টা শ্রেষ্ঠ সময় ? আমার কাছে সুবেহ্ সাদিক! একটা সময় আসবে আমি মরনেও থাকবোনা, জীবনেও থাকবো না, ঐ মৃত্যু সন্ধিক্ষন সময়টুকুতে আমার স্ত্রী-সন্তানেরা আমার শয্যাপাশে বসা থাকবে। আমার নিষ্করুণ চোখ ওদেরকে দেখতে দেখতে বন্ধ হয়ে যাবে। তারপর আমার আত্মা বেরিয়ে যাবে। দূরে মসজিদগুলোতে তখন ফজরের আযান ধ্বনিত হতে থাকবে।
কাঞ্চনজঙ্গা
কাঞ্চনজঙ্গা খুব কাছ হইতে দেখিবো বলে একবার নেপাল গিয়াছিলাম। হিমালয়ের পাদদেশে দাড়াইয়া কাঞ্চনজঙ্গা দেখিবার জন্য উপরের দিকে তাকিয়েছিলাম কিন্তু দেখিতে পারি নাই। আরেকবার দার্জিলিং-এ গিয়াছিলাম, অনেক দূর হইতে পাহাড়ের উপরে দাড়াইয়া ভোরবেলায় দেখিয়াছিলাম শুভ্র তুষারে ঢাকা, কাঞ্চনজঙ্গা।
প্রিয় মানুষেরা যতো দূরেই থাক্ না কেন, তাহাদেরকে আমি দূর হইতেই দেখিতে পাই।
সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬
কদমফুল
বর্ষা এলেই খুব করে গ্রামে যেতে ইচ্ছা করে। গ্রামে যেয়ে কদমফুল দেখতে ইচ্ছাা করে। শুনেছি আমাদের বাড়ির পুকুরপাড়ের কদম গাছটি এখনো আছে। এখনো সেখানে নাকি ফুল ফোটে। এখনো বৃষ্টিতে ভিজে থাকে সব ফুুল।
রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৬
সেই পথগুলো
সেই বালক বেলায় যে পথগুলো দিয়ে হেটে হেটে স্কুলে যেতাম সেই পথগুলোর কথা মনে পড়ে। ১৯৬৭/৬৮ সালের কথা। নিঝুম পাড়াগা্ঁয়ের এক স্কুলে পড়তাম। পড়নে থাকতো সাদা হাফসার্ট,পায়জামা আর পায়ে স্পন্জের চপ্পল। হাতে থাকতো ক'খান বই খাতা। বাড়ি থেকে আড়াই মাইল দূরের স্কুল। গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হেটে হেটে স্কুলে যেতাম। কিছু পথ ছিলো ডিস্টিক বোর্ডের কা্ঁচা রাস্তা। বর্ষার কাদামাটি ভেঙ্গে, রোদ,বৃষ্টিতে ভিজে আর ধূলোর পথ পেরিয়ে স্কুলে যেতাম।
বালক বেলার এই পথগুলোর কথাই মনে পড়ে। যদিও এখন সেই পথগুলো বেশীরভাগ পাকা হয়ে গেছে। তারপরেও।
বালক বেলার এই পথগুলোর কথাই মনে পড়ে। যদিও এখন সেই পথগুলো বেশীরভাগ পাকা হয়ে গেছে। তারপরেও।
শনিবার, ১৬ জুলাই, ২০১৬
বাংলা বিভাগ
১৯৭৫-১৯৮১ সময়কাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের ছাত্র আমি। এই যে অপরাজেয় বাংলা, পিছনেই কলা ভবন। ঠিক দোতালেই বাংলা বিভাগ। অপরাজেয় বাংলা'র পিছনের গাছগুলো তখন ছিলনা। আমাদের মুখর পদচারনা ছিল কলা ভবনের দোতালায় সেমিনার রুমের সামনে।এখানে দাড়ালেই দেখা যেতো বটতলা। মান্না-ওবায়দুল কাদেরদের ভাষন শুনতাম এখানথেকেই। আকরাম স্যার, আহমদ শরীফ স্যার রা খট খট হেটে যেতো ! এখনো সেখানেই অপরাজেয় বাংলা আছে, কলা ভবন আছে, বাংলা বিভাগ আছে। শুধু আমি নেই।সহপাঠিরা নেই।আমাদের কেউ নেই।
শুক্রবার, ১৫ জুলাই, ২০১৬
শ্রাবনের প্রথম দিন
আজ শ্রাবনের প্রথম দিন। সকাল থেকেই ঢাকার আকাশে বৃষ্টি আর মেঘ। এই রকম মেঘ দেখলেই আমার রামগিরি পর্বতে যেতে করে। তবে যক্ষ বেটার মতো একা নয়। সঙ্গে থাকবে একজন দয়িতা। সারা পর্বতময় ঘুরে ফিরে কেবল দুজনের বৃষ্টিতে ভেজা আর ধবল মেঘের নীচে মেঘে মেঘে নিজদেরকে ঢেকে রাখা।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)