শুক্রবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৭

তুমি এসো

এতো কাছে আসতে নেই অগ্নি মুখ প্রজ্বলিত করে
দীর্ঘ চুম্বনের পথ পারি দিয়ে
হঠাৎ জ্বলে ওঠা প্রথম আলোর মূর্ছনার মতো --
এতো ভালো বাসতে নেই
সব প্রেম চিহ্নর পথ মাড়িয়ে আবাস গড়ো এসে
যেখানে নদী আছে
জ্যোতির্ময় অরন্যানী আছে
বসন্ত দীঘি আছে
যেখানে হাত ডোবালেই পেয়ে যাও অমৃতের পবিত্রতা।

তুমি আলো হয়ে আলো ছড়াও নির্জনতার ভিতর
মহাকাশ ছুঁয়ে থাকে যেমন পৃথিবীর বুকে --
তোমার দীপ্তিময় মুখে বিষন্নতার বিলাপ নেই
তুমি ঘুমের ঘোরে জড়িয়ে ধরো
অঙ্গার করো
ছাই করো
ভস্মীভূত করো
আপন কক্ষপথে জ্বলে ওঠে যতো তারা।

এতো কাছে জড়াতে নেই
যেখানে নক্ষত্র নক্ষত্র সংঘর্ষে আলিঙ্গন তৈরী হয়
নৈঋত থেকে ঝড় হয়, হৃদয় তোলপাড় হয়
রক্ত ক্ষরণ হয়,বসতি ধ্বংস হয় --
আমি এই প্রেম চাইনা, এসো প্রিয়তমা
অন্ধকারের নৈঃশব্দ ভেঙ্গে সকল শূণ্যতা পূর্ণ করো
ঐ পূর্ণিমার চাঁদের মতো আলো ঝলমলিয়ে।

অণুকাব্য

পরশু রিকশায় করে আমি আর আমার স্ত্রী যাচ্চিলাম তিন নং সেক্টরে একটি ব্যাংকে। হঠাৎ পথে গুরিগুরি বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। আমরা রিকশায় বসলে সাধারণত হূড উঠাইনা। এবারও হূড উঠানো হলোনা। বৃষ্টিতে আমার মাথার চুল ভিজে ষাচ্ছিলো। সে জানে, বৃষ্টিতে ভিজলে আমার ঠাণ্ডা ও জ্বর আসে। তাই সে তার পরনের ওড়না আমার মাথায় বিছিয়ে ধরলো। আপ্রাণ চেষ্টা করলো আমি যেন বৃষ্টিতে ভিজে না যাই।

নাহ্!  তারপরও বৃষ্টিতে আমাকে ভিজতে হলো। এবং কাল থেকে আমার জ্বর এবং কাশি। বৃথাই গেলো তার ওড়না দিয়ে জলে না ভেজার সেই প্রচেষ্টা!

হঠাৎ তুমি ছাড়া

আমি জানি তুমি ছাড়া পুড়ে খাক হয়ে যায়
সবুজের প্রান্তর, ফসলের মাঠ
চৌচির হয়ে যায় উর্বর মাটি
বিরাণ হয়ে যায় লতা গুল্ম বৃক্ষ, সারি সারি তরু।

তুমি না থাকলে গান নেই
গৌরী প্রসন্নের কলম থেমে যায়
বেটোফোনের ভায়োলিন করুণ সুরে ভেসে যায়
কানে বাজে রাতভর বিসমিল্লা খাঁর সানাই
তুমি না থাকলে দূরাগত কোনো নিক্কণ বাজেনা।

সুখ নেই, প্রশান্তির বুক নেই, ভালোবাসা নেই
তুমি না থাকলে শুকিয়ে যায়
দীঘির শান্ত জল,
সব কিছুই বাষ্প হয়ে উড়ে যায়, মেঘে মেঘে ভেসে যায়।

আমার সকল মায়া সুধা, হৃদয় গহীনের সকল আকুলতা
সকল ভাবনা,
তিস্তা পারের দু 'কূলের সকল দীর্ঘশ্বাস --
হঠাৎ তুমি ছাড়া সব কিছুতেই হাহাকার করে ওঠে।

মনে কি পড়ে

মনে কি পড়ে কোভা? ব্যস্ত শহরে সেদিন বৃষ্টি নেমেছিল
তুমি ভেজা হাইওয়ে ধরে
চলে গিয়েছিলে লং ড্রাইভে অনেক দূরে
কি নিঝুম বৃষ্টি ছিলো ! রিমঝিম উড়ছিলো পথের ক্লান্তি
মনে কি পড়ে কোভা? আমি ছিলাম তোমার পাশে।

চোখ মেলেছিলো ডানা উড়ন্ত গাংচিলে
দূরে ঝাঁও বনে ঝরছিলো বৃষ্টি অনবরত
আরো বেশি স্তব্ধতার ভিতর তুমি ছিলে ভাবলেশহীন
মনে কি পড়ে কোভা?
কি মোহময় সেই বৃষ্টিপাত! কি অবিরাম জলের ধারা
বাহূর আশ্রয়ে জানিয়েছিলে প্রথম ভালোবাসার নিমন্ত্রণ
বলেছিলে --' তোমাকে ভালোবাসি। '

তুমি বিস্মৃত হয়োনা কোভা --
সেই বিনম্র মুখের হাসি সেই মায়াবী দৃষ্টিপাত
নগরীর সমস্ত সভ্যতা ভেঙে চুরমার হয়েছিলো
বৃষ্টির শব্দে পথ চলতে চলতে সেই বিকেল!
বিস্মৃত হয়োনা কোভা
শান্তা মনিকার তীরে আমাদের সেই শেষ আলিঙ্গন!
প্যাসিফিকের জল স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলো তারও আগে
যা আজ আর মনে পড়েনা।

জীবন ফুড়িয়ে গেলো

উচ্ছল তারুণ্যে আর উদ্দাম যৌবনে কতো সুন্দর জিনিস চোখের সামনে চলে এসেছে, সেগুলো কখনোই ভালো  করে তাকিয়ে দেখিনাই। আর এখন? ছোট্ট একটি ঘাসফুল দেখলেও বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকি । পৃথিবীতে এ রকম কতো বিস্ময় রয়ে গিয়েছে, যা দেখা হয়নাই। আর দেখবোই এখন কখন? দেখতে দেখতে জীবনই ফুড়িয়ে গেলো।

সুশীতল বাতাস নেই

আজ আর কোনো সুশীতল বাতাস নেই
মেঘের কাছে কারো কোনো শুভাশীষ নেই
আজ চারিদিকে তপ্ত নিঃশ্বাসের লু হাওয়া --
আজ দূরে মেঘের ছায়ায়
শূন্যতার ঘুড়ি উড়িয়ে দেই।

সুসম্পর্কের জন্য চাই কাডলিং

সুসম্পর্কের জন্য চাই কাডলিং। কাডলিং একে অপরের কাছাকাছি আসার জন্য খুবই জরুরি। একে অপরকে অনুভব করার মধ্যে দিয়ে প্রাণ পায় সম্পর্ক। আর এই সম্পর্ক গড়ার জন্য চাই 'কাডলিং' বা 'হাল্কা আদর'।

কাডলিং আপনার মনকে খুশি রাখে। যন্ত্রণার উপশম ঘটায়। মানসিক চাপ কমায়।  মনোমালিন্য থাকলে তা লাঘব করে। সম্পর্কের একঘেয়েমি কাটিয়ে বৈচিত্র্য আনে। মোদ্দাকথা, 'কাডলিং' উভয়ের মনকে প্রফুল্ল করে। যা একটি সুন্দর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

সবাইকে  শুভরাত্রি।