সোমবার, ২ জানুয়ারি, ২০১৭

সেইসব প্রেম খু্ঁজি

সেইসব প্রগাঢ় প্রেম এখনো গায়ে লেগে আছে
অশ্রু ছলছল চোখে দেখি তোমার মুখচ্ছবি
বিদ্ধস্ত বুকে,দীর্ঘশ্বাস ভরে আছে-
যতোদিন যায়,মনে পড়ে সেইসব দিন
 তোমার শরীরের গন্ধ ভাসে গভীর রাত্রিরে
মুক্তাচোখ জোনাক জ্বলে ঘরের ওপাশে ঝা্ঁরে
 আলো খু্ঁজি,সেইসব প্রেম খু্ঁজি অন্ধকারে।

কাব্য গা্ঁথা

রাতের পবিত্রতা তোমার সারা শরীরে,
পাপগুলো জানালার ওপাশে দাড়িয়ে থাকে
মনে হয় তোমার শরীর এক কাব্য গা্ঁথা
পৃষঠা উল্টায়ে দেখি এর সকল পাতাগুলি
এক একটি পাতায় যেনো মুক্তার দানা
এক একটি কোষে যেনো মানিক্য হীরা
তাজমহলের দ্যূতি ছড়ায় শিরা উপশিরায়
রাতের পবিত্রতা ভাঙ্গে তোমার উন্মত্ততায়
সব পাপ এসে তৈরী করে ক্লেদ
তখন কাব্য গা্ঁথা হয়ে যায় তোমার শরীর।

রবিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৭

পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ

ঈশ্বরকে বলবো- অনন্ত মহাকালের দু'একটি মুহূর্তের জন্য কেন আমাকে এখানে পাঠিয়েছে ? আমি মানুষের প্রেম ভালোবাসাকে ছাড়তে পারছিনা।পারছিনা আত্মজার মুখ মলিন করে দিয়ে চলে যেতে।এখানে নদী আছে,নীল আকাশ আছে,পাখী আছে, আছে দোলনচা্ঁপা আর চামেলী ফুলের সুবাস।স্বর্গের প্রতি কোনো আসক্তি নেই। পৃথিবীর রূপ রস গন্ধের কাছেই আমি থেকে যেতে চাই।

মনে নেই

সারারাত যে ছিলো পাশে সকালবেলাা দেখি সে নেই
সাদা হয়ে আছে বিছানা যেনো ধবল আকাশের মেঘ
কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে ভেসে আসছে সকালের রোদ
আমাদের যৌথ শরীর কখন বিচ্ছি্ন্ন হয়েছিলো
কখন ছেদ পড়েছিলো শিশিরের জল পতনের শব্দ
কখন নদীর তরঙ্গ স্রোতে বা্ঁধ ভেঙ্গেছিলো
কখন স্রোতরস গড়িয়ে পড়েছিলো সারা বিছানায়
বিমুগ্ধ সকালবেলায় কোনো কিছুই আর মনে নেই।

যতোক্ষণ প্রেমে থাকো

যতোক্ষণ পাশে থাকো ততোক্ষণই জেগে থাকি
ততোক্ষণই জেগে থাকে শরীর,জেগে থাকে বুক
জেগে থাকে চা্ঁদ জেগে থাকে তারা,দুরের লুব্ধক
যতোক্ষণ শুয়ে থাকো পাশে ততোক্ষণই প্রেম
ততোক্ষণই হেম ততোক্ষণই গরল আর অমৃত
ততোক্ষণই আঁখিতে আ্ঁখি,গ্রীবাতে গ্রীবা
ততোক্ষণই আসক্তি রক্তের নিরাসক্তি স্বেদের
যতোক্ষণ প্রেমে থাকো ততোক্ষণই জেগে থাকি
ততোক্ষণই ভোগ ততোক্ষণই সম্ভোগ মক্ষিকার।




প্রথম ভালোবাসা

তোমার সাথেই প্রথম ভালোবাসা
প্রথম শরীরের ঘ্রাণ তোমার থেকেই-
এর আগে কখনো চূর্ণ হয়নি অহংকার
রোদ্রের নৈঃশব্দে কেটে গেছে দুপুর
কতো আলিঙ্গন ঝরেছে বুকের উপর
লতায় গুল্মে ঘাসে প্রেম ছড়িয়ে গেছে
কেউ কি দেখেছিলো আমাদের গ্রহণকাল
দেখেছিলো প্রথম প্রেম যৌবন-বেলার ?



টক অফ দ্যা টাউন

অনেকদিন আগের বাবলির সাথে এক বিকেলের কথা।পাবলিক লাইব্রেরীতে বসে বাবলীর জন্য অপেক্ষা করছিলাম।পাতা উলটাচ্ছিলাম 'খেলারাম খেলে যা'-র।জাহেদা আমার মনকে স্থির করতে পারেনি।ওকে পাশে রেখে 'বেগম শেফালী মির্জা'।ভালোই লাগছিলো মির্জা বউকে।বাবলী আসলো এক ঘন্টা লেটে।সে এসেই বলে- বাসায় দশটা মিথ্যা কথা বলতেও তো দশ দু'গনা বিশ মিনিট লেগে যায়।
বললাম, কোথায় যাবে ? বাবলী বলে- কোথায় আবার যাবো ? বাইরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি।
বললাম- ঠো্ঁটের লিপস্টিক এবড়ো থেবড়ো কেন ? টান টান জবাব বাবলীর- সৌমেন ঠিকমতো চুমু খেতে পারেনি।
বললাম- সৌমেন কে ? বাবলীর জবাব- কাল রাতের স্বপ্নের। আমি ওকে চিনিনা।
বাইরে তখনো বৃষ্টি।শাহবাগ বৃষ্টিতে ভিজছে। জলে ভিজছে রিকশাওলা।জলে ভিজছে কাক।জলের ছিটা লাগছে সি্ঁড়িতে বসা এক জোড়া তরুণ তরুণীর। ওরা যুগল কিনা জানিনা।
বাবলীকে বললাম- চলো রিকসায় যেয়ে বসি।হূট তোলা থাকলে তোমাকে নিবিড় ভাবে কাছে পাওয়া যাবে।এবারও বাবলীর উত্তর- না।
বললাম- আসলে তো দেরীতে, এতো চটাং চটাং করছো কেন ? বাবলী একটু রেগে বলে- এ জন্যে অসুল করতে চাও ? কোথায় যাবে ? চলো। বললাম- 'টক অফ দ্যা টাউন'।
'টক অফ দ্যা টাউন' মিরপুর রোডে ধানমন্ডি পা্ঁচ নম্বর সড়কের দোতালাৃতে অবস্থিত একটি ছোট্ট রেস্টুরেন্ট।আমি আর বাবলি সেই রেস্টুরেন্টে চলে যাই। বসে আছি দু'জন পাশাপাশি।শহরের কোনো কথা নেই।বাইরে তখন বৃষ্টি নেই। চীনা মাটির প্লেটে চামচের টুংটাং শব্দ।বাবলীর কাঁচের চুড়ির রিনঝিন শব্দ।বাইরে গাড়ীর হর্ণ।ভালোবাসায় কখন শব্দ হয় ? কখন প্রাণের বীণা বাজে ? আমরা কান পেতেছিলাম বুকের শব্দ শোনার। শুনেছিলামও সেদিন 'টক অফ দ্যা টাউন'এ সারা বিকেল।