সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৬

উপত্যাকার সেই মেয়ে

চেঙ্গী ভেলী, চেঙ্গী নদী দুটো নামই অনেক শুনেছি
কেমনই সে নদী কেমনই সে উপত্যাকা ? আমি শুনেছি-
পাহাড় আছে সেখানে, গিরি আছে সেখানে, ঝর্ণা আছে সেখানে,
আমি দেখিনি সে পাহাড়, দেখিনি সেই গিরি, দেখিনি সেই ঝর্ণা,
ঐ ঝর্ণাপাড়ে অরণ্য ছিলো, গাছগাছালি ছিলো, জুম চাষ ছিলো,
চেঙ্গী নদীর পাড়ে একটি গ্রাম ছিলো
সে গা্ঁয়ে এক মেয়ে ছিলো, হরিণীর মতো তার চোখ ছিলো
পরনে তার পিরান ছিলো, পায়ে তার নুপুর ছিলো,
নদীর জলে সে পা ভিজিয়েছিলো,
উপত্যাকায় ঘাস ছিলো,,মাধবীর ঝা্ঁড় ছিলো,
পাখী ছিলো, ভোরের দোয়েল ছিলো, শালিক ছিলো,
সেখানেে নীল আকাশ ছিলো, শ্রাবনের মেঘ ছিলো,
সেখানেও চা্ঁদ উঠতো, সেখানেও পাখী গান গাইতো,
চেঙ্গী ভেলী এখনো আছে, চেঙ্গী নদী এখনো বয়ে চলেছে
উপত্যাকায় অরণ্য আছে,,নদীতে জল আছে,
সেখানে আজো পূর্ণিমা হয় ,আজো বসন্ত আসে,
উপত্যাকার সেই পাহাড়ী মেয়েটা আছে কিনা
 এখনো সেখানে সে থাকে কিনা জানা নেই।

আলোর ঝর্ণাধারা

এমন রাক্ষুসে জ্যোৎস্নার আলোর ঝর্ণাধারা এ জীবনে আর আসবে না।গৃহত্যাগ করে নিরুদ্দেশ হওয়ার যে ক্ষণ আমি জীবনভোর খু্ঁজেছিলাম তা আজ রাতে আমারই দুয়ারের সামনে চলে এসেছিলো।কিন্তু সংসারের মানুষগুলোর মায়ার টানে আমার সেই লালিত গৃহত্যাগ করার স্বপ্ন আজ পূরণ হলোঁ না।

কাগজের নৌকা

অনেক দিন আগের কথা।একদিন দোকান থেকে সাতরঙ্গের সাতটি রঙ্গিন কাগজ কিনে নিয়ে আসি।ঘরের সব দরজা জানালা বন্ধ করে কাগজগুলো দিয়ে সাতটি নৌকা তৈরী করি। জীবনের এক উদ্দাম তারণ্য সময়ে একটি মেয়েকে আমি সাত নামে ডাকতাম,কিন্তু একসময়ে সে নামগুলোতে ডাকার প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় ।একটি রঙ্গিন কলম দিয়ে সাতটি নৌকায় সেই সাতটি নাম লিখি। সেদিন ছিলো রর্ষার এক বিকেল।আকাশে মেঘ ছিলো।কোথাও রোদ নেই।আবার বৃস্টিও নেই। কবিদের মতো একটি ঝোলানো ব্যাগে করে নৌকাগুলো নিয়ে চলে যাই বালুর নদীর তীরে।একটি নি্র্জন নদীর কূল বেছে নেই। একটি স্টার সিগারেট ধরাই।মনে পড়ছিলো কি তখন কারো কোনো মুখের কথা ? নদীতে সেদিন স্রোত ছিলো।দমকা বাতাসও বইছিলো। আমি একে একে নাম লেখা কাগজের নৌকাগুলো বালুর নদীর জলে ভাসিয়ে দেই। দেখলাম- প্রবল স্রোতের টানে আর দমকা হাওয়ায় নৌকাগুলো  ভেসে ভেসে অনেক দূর চলে গেলো। 

দোলনচাঁপা

পূর্নিমারাতে রাধা সাদা শাড়ি পড়ে বের হতো।গলায় থাকতো শূচিশুভ্র কূ্ঁচের মালা,খোপায় পড়তো দোলনচা্ঁপা।জ্যোৎস্নার রঙ্গের সাথে সব মিলে যেতো, যেনো তাকে কেউ দেখতে না পায়।দোলনচা্ঁপা ফোটে বর্ষায়,আবার শরৎ হেমন্তেও ফুটতে দেখা যায়।ওর পাপ্ঁড়িগুলো হয় সাদা,গন্ধও দারুণ কাছে টানে।যেমন করে কাছে টানতো রাধা কৃষ্ণকে।
আজ শুক্লা চতূর্দশী চা্ঁদের রাত।সারা বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরে খু্ঁজেছি দোলনচা্ঁপা,,কোথাও একটি  দোলনচা্ঁপাও পাইনি।আজকের এই Super Moonlit Night কি তবে ব্যর্থ হয়ে যাবে !

রবিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৬

এই যে সকাল

এতোদিন পৃথিবীর অনেককিছুই হেলাফেলা করে দেখেছি।এই যে সকাল,দখিন দিক হতে এই যে ঝিরিঝিরি বাতাস,এই যে আম্রকাননে পাখীদের গান গাওয়া, এসব আগেও ছিলো। তখন এই সৌন্দর্যগুলি চোখে পড়ে নাই। এ রকম কতো মোহনীয় সকাল দিনের রোদ্রে হারিয়ে গেছে।তার ইয়াত্তা নেই।,আর এখন এই সকাল দেখি মু্গ্ধ নয়নে, এখনকার এই সকালের মাঝে বেলাশেষের বেদনার সুর শোনা যায়। সবাইকে ভোরের শুভেচ্ছা।

তিন ভূবনের তিনজন

১. মোহাম্মদ খুরশীদ আলম

কিছু সুর চির অম্লান, কিছু কণ্ঠ চির অমলিন। সেই সব কণ্ঠের বিচ্ছুরণ ঘটছে বাংলার প্রকৃতিতে, সব শ্রেণীর মানুষের কাছে। তেমনি এক কণ্ঠের জাদুকর মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। যিনি দরদমাখা কণ্ঠে গান গেয়ে চলেছেন আজ পর্যন্ত। প্রথম প্লে ব্যাক করেন ১৯৬৯ সালে বাবুল চৌধুরীর পরিচালনায় এবং ইফতেখারুল আলমের প্রযোজনায় আগন্তুক ছবিতে। ১৯৬৯ থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশ ছবির গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। বাংলা সিনেমার সুবর্ণ সময়ের একজন খ্যাতিমান প্লে-ব্যাক সিঙ্গার খুরশিদ আলম। একটা সময় ছিল বাংলা সিনেমার গান মানেই খুরশিদ আলম। বাংলা চলচ্চিত্র সংগীতকে তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। অসাধারণ কণ্ঠ তার,সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে সর্বাধিক গান গেয়েছেন কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম। তার স্ত্রী রীনা আলম এবং দুই মেয়ে মেহরিন আলম ও মেহনাজ আলম। মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের গান নিয়ে কেটে যায় সারাদিন।  যতদিন তিনি জীবিত আছেন, ভালো গান গেয়ে বেঁচে থাকতে চান।

২. আমজাদ হোসেন
আমজাদ হোসেন  একাধারে অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, কাহিনীকার, সংলাপকার, গীতিকার, নাট্যকার, গল্পকার, ঔপন্যাসিক। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গুণী এই ব্যক্তি ১৯৭০ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর লেখা চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেয়া, পরবর্তীতে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিপুল জনপ্রিয়তা পায়। আমজাদ হোসেন নিজেও চলচ্চিত্র পরিচালনা করে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর পরিচালিত গোলাপী এখন ট্রেনেসুন্দরীজন্ম থেকে জ্বলছিদুই পয়সার আলতাভাত দে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাংলা চলচ্চিত্র।আমজাদ হোসেন অপূর্ব সৃষ্টিশীল একজন মানুষ। আমাদের দেশে তারমতো চলচ্চিত্র পরিচালকের আদৌ জন্ম হবে কি না সন্দেহ আছে।’ একজন আমজাদ হোসেন আমাদের বাঙালি জাতির অহঙ্কার। একজন আমজাদ হোসেন আমাদের চলচ্চিত্রের গর্ব, একজন আমজাদ হোসেন প্রবীণ শিল্পীদের অহঙ্কার। একজন আমজাদ হোসেন নিজেই একটি ইন্ডাস্ট্রি, যাকে নিয়ে নতুন প্রজন্ম গবেষণা করলে হয়তো নিজেদের মেধার বিকাশে তা কাজে লাগাতে সক্ষম হবেন।

৩. নায়করাজ রাজ্জাক
নায়করাজ রাজ্জাক একজন জীবন্ত কিংবদন্তী। জহির রায়হানের সুনিপুণ হাতের ছোঁয়ায় অসাধারণ লক্ষ্মীন্দর হয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হয়েছিলেন, সঙ্গে অপূর্ব সুন্দরী বেহুলারূপী সুচন্দা। ১৯৬৬ সালে মুক্তি পেল ‘বেহুলা’। ছবি সুপারহিট। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র পেল একজন নায়ক, যিনি পরবর্তী সময়ে এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের অপরিহার্য নায়কে পরিণত হলেন। ঢাকার সিনেমা হলগুলোতে তখন পাক-ভারতীয় ছবির দাপট। ভারতের রাজকাপুর, দিলীপ কুমার, নার্গিস, পাকিস্তানের মোহাম্মদ আলী, জেবা, সুধির, শামীম আরা, ওয়াহিদ মুরাদ এবং কলকাতার ছবি বিশ্বাস, উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, বিশ্বজিৎ, সৌমিত্রদের ছবির সঙ্গে পালা দিয়ে চলতে শুরু করল ঢাকার নির্মাতাদের নির্মিত ছবি। আব্দুল জব্বার খান, রহমান, শবনম, খলিল, ফতেহ লোহানী, খান আতা, সুমিতা দেবী, আনোয়ার হোসেন, সুচন্দাদের সঙ্গে যোগ হলো আরো একটি নাম ‘রাজ্জাক’।তারপর তার  নায়করাজ হওয়ার কাহিনী।তিনি হয়ে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের মুকুট পরিহিত সম্রাট।

তোমাদের পাশে কেউ নেই

সিধু,কানু,চা্ঁদ,ভাইরব এরা এখন সবার কাছে বিস্মৃত নাম।ইতিহাসের পাতায় এদের আত্মত্যাগের কথা লেখা থাকলেও আমরা এদের নাম চিহ্ন ভুলে গেছি।আজ থেকে ১৬০ বছর আগে এদের নেতৃত্বে ইংরেজ শাসক,নীলকর,জমিদার,মহাজন,সুদখোর,এর বিরূদ্ধে এরা সসস্ত্র বিদ্রোহ করেছিলো।এই সিধু কানুদের সাথে যোগ দিয়েছিলো ত্রিশ হাজার সাওতাল সম্প্রদায়ের মানুষ। তাদের সেইদিনের আ্ন্দোলনের সাথে আরো একাত্ম হয়েছিলো কুমার,কামার,ডোম,তেলী,কর্মকার,চামার,মমিন সম্প্রদায়ের গরীব মুসলমান ও গরীব হিন্দু জনসাধারণ।

    গোবিন্দগঞ্জের নির্যাতিত অসহায় এই সাওতাল সম্প্রদায়ের মানুষগুলোর পাশে আজ একজন মানুষও নেই।