বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০১৬

যে অপেক্ষায় আছে

বসন্তের যামিনী তোমার আমার
 প্রেম দোলায় দুলবে আমাদের প্রাণ
 আনন্দলোকের গাওয়া  কোনো গান নয়
 আনন্দ বীর্য ঘুরবে সেখানে নিরন্তর
 আমাদের দায় আছে প্রজন্মের কাছে,
যে অপেক্ষা করছে- ও পাশের দরজায়
যে আসতে চায়- আনন্দ ধারায়।


ঘরেও আছি,বাগানেও আছি

এখন শিশিরের সকাল, রোদ্র শুরু হয়েছে আরো সকালে
তুমি ঘুমহীন থাকো, বিছানায় এলোমেলো রাতের পোষাক
সকালের ঘুম শুরু মধ্যরাতে, চা্ঁদ ছিলো না কাল যামিনীতে
তোমার গ্রীবা নতো হয় নাই, আমার চু্ম্বনের সময়ে
তুমি যদি সকালের ঘুম ভেঙ্গে যেতে চাও,যাবে-
মিটিয়ে আমার সকল চাহিদা যতো, যদি থাকতে চাও,থাকবে-
 দুপুরের রোদ্রে হেটে বেড়াও গোলাপের বাগানে
যদি প্রজাপতি এসে পড়ে তোমার গালে
তাকে তুমি চুম্বনে ফেরাও ঠো্ঁটে
আমি তোমার ঘরেও আছি,বাগানেও আছি
যেখানে মধুকর ্প্রজাপতি ঘুরে বেড়ায়,আমি সেখানেও আছি
আমি তোমার থেকেই অমৃত সুধা করবো পান।


আমাদের প্রেম

অনেকদিন আমরা একে অপরে আলিঙ্গন করিনি
আমাদের বুক হয়ে গেছে তাই মরুভূমির ধূধূ মাঠ
অনেকদিন আমরা একে অপরে চুম্বন আ্ঁকিনি
আমাদের ঠো্ঁট হয়ে গেছে তাই শুস্ক নদীর ঘাট
অনেকদিন আমরা একে অপরে মিলিত হইনি
আমাদের অস্থি হাড় হয়ে গেছে তাই চৌচির বালুচর                                                                                             আমাদের একে অপরে মাঝে কোনো প্রেম নেই
আমরা  ম্লান হয়ে গেছি তাই শূণ্যতার গহীন ভিতর
 অরণ্য ছেড়ে আমরা চলে গিয়েছি দূরের পথ ছাড়িয়ে
আমাদের পায়ের ছাপগুলি পথের ধূলিতে গেছে হারিয়ে।

জীবনের পরিসংখ্যান

কোনো কিুই আজ আর মেলাতে পারি না।জীবনের কতোগুলো সময় আলস্যে কর্মহীন ভাবে পার করেছিলাম। কতোগুলো দিন ছিলো নির্মল আনন্দের।কতোগুলো দিন ছিলো দুঃখ আর বেদনার।কার কাছ থেকে কতোটুকু অনাদর পেয়েছিলাম, কে কতো ভালোবাসা দিয়েছিলো । জীবনের এই প্রান্তবেলায় অনেক কিছুই মিলছে না। তারচেয়ে বরং হিসাবের এই পাতাটি বন্ধ করে রাখি।

নক্ষত্রের রাত

নক্ষত্রের রাত বলি আর তারার রাতই বলি
পূর্নিমার রাত বলি কিংবা অমানিশার রাতই বলি
তোমাকে পাওয়ার জন্য সব রাতই মধুর।
নক্ষত্র ঝরে পড়ে আকাশ থেকে,
পূর্ণিমার জ্যোৎস্নায় স্নাত হয় পৃথিবীর জমিন
তুমি তখন শুয়ে থাকো ঘাসে
রাতের কালো ঝালর জড়িয়ে থাকে তোমার শরীরে
কালো পর্দার নিচে থাকে তোমার বু্ঁনো রূপ
যে রূপ দেখে নক্ষত্রের আকাশ
যে রূপ দেখে বিমুগ্ধ হয় লতা গুল্ম ঘাস
আমাকেও তুমি কেড়ে নাও তখন
আমাকেও তখন মগ্ন থাকতে হয় নক্ষত্রের জলে
তখন পতন হতে থাকে সৌরজগতের সকল গ্রহ তারা
সব গ্রহ তারারা হারায় তখন তার আপন কক্ষপথ
আমরা তখন আত্মহত্যায় মেতে উঠি জমিনের উপর।




মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৬

হৈমন্তিক শুভেচ্ছা

এই হেমন্তে এবার আর গ্রামে যাওয়া হলো না।দেখা হলো না সেই ছোট নদীটির তীরে ভোরের শিশির ভেজা ধানক্ষেত।এই শহরের ইট পাথরের মাঝেই চলছে জীবন। চলতে চলতেই কতো হেমন্ত চলে গেল।সময় বহিয়া যায়,আমাদের বার্ধক্যের বলিরেখাগুলি উজ্জ্বল হতে থাকে।প্রাণশক্তিও কালের স্রোতে হারিয়ে যায়।সবাইকে হৈমন্তিক শুভেচ্ছা।

হেমন্তের জনারণ্যে

অনেকটা হঠাৎ করেই দেখা হয়ে গেলো আজ দু'জনের
শহরের পিচ পথে লাইট পোস্টের নীচে যেখানে অন্য কেউ ছিলো না
আলো আধারের নিমগ্নতায় তোমাকে দেখলাম
শুস্ক খুসকো খুসকো ঠো্ঁট যেখানে চুম্বনের দাগ পড়েনি অনেককাল
দেখলাম বুকের ্আঁচল ম্রিয়মান, যেখানে কোনো সুগন্ধি ছিলো না
মনে হলো কতোকাল এই বুকে কারো একটি আলিঙ্গন পড়েনি।

আজ আর তোমার হাতখানি ধরা হলো না
 মেহেদিহীন কোমল নোখগুলো হয়ে গেছে পর
হাটছিলাম এলোমেলো দু'জন এভাবে হাটে না কোনো ্প্রেমিক প্রেমিকা
তোমার সেই কাজল আ্ঁকা চোখ দু'টো দেখছিলাম বার বার
কাজল নেই সেখানে কালচে পড়েছে জল পড়া  নুরীর মতো
যেখানে কোনো দুঃখ ছু্ঁইতে দেইনি কোনো সময়ে কোনো অনাদরে
সেই তোমাকে দেখছি আজ হয়ে গেছো দীনহীনা অভাগীর মতো।

পথচারীরা আজ কোনো দুঃখ দেখলো না তোমার
এরাই সাক্ষী ছিলো একসময় কতো ভালোবাসার স্পর্শের
কতো চুম্বন দেখেছে পার্কের পাখী,কতো আলিঙ্গন দেখেছে বনের কাকাতূয়া
আজ এই হেমন্ত সন্ধ্যায় সে সবই দুঃখ জাগানিয়া নস্টালজিক
কোনো কথা না বলে কোনো চুম্বন আর আলিঙ্গন না রেখেই
 বিষাদময় এই সন্ধ্যায় জনারণ্যে তুমি হারিয়ে গেলে।