বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬

এপিটাফ

আমি কোয়েল তালুকদার, 
যার জন্ম একদিন কার্তিকের শেষ রোদের বিকেলে,
সিরাজগন্জের যমুনার পাড়ে বড়ো হতে হতে-
আমার মা বাংলাদেশের মতো রাবেয়া খাতুন।
মাটি আর মানুষের আমার বাবা হারন-অষ-রশিদ তালুকদার।

লালনীয় জীবন

আমার জন্ম যদি ফকির লালন শাহ্ এর সময়কালে হতো, তহলে আমি লালনের শিষ্য হতাম। লালনের আখড়ায় যেতাম। গা্ঁজা টানতাম। গান করতাম। সংসার বৈরাগী হয়ে  ঘরহীন জীবন যাপন করতাম। কি সুখ ই না ছিলো লালনীয় জীবন যাপনে ! 

সন্নাস

দূর পাহাড়ে নির্জন উপতাক্যায় কোনো টিলায় অবস্থিত মঠ,গির্জা কিংবা মন্দির অথবা কোনো মাজারে সন্নাস হয়ে বাকি জীবন কাটাতে ইচছা করছে।

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১৬

ভবতোষের মা

১৯৭০ সালের কথা। তখন আমি বাগবাটী স্কুলের ছাত্র। আমাদের ক্লাশে দুইজন কুমার ( মাটির হাড়ি পাতিল নির্মাতা ৃ) পরিবারের হিন্দু ছাত্র ছিল। ওরা দুজন আপন সহোদর। একজনের নাম ভবতোষ পাল, আরেকজনের নাম পরিতোষ পাল। ওদের দুজনের সাথেই আমার ভাল বন্ধুত্ত ছিল। একদিন ক্লাশ ছুটি শেষে ওরা দুজন আমাকে ওদের বাড়ীতে নিয়ে যায়। ভবতোষদের মা প্রথমে আমাকে সন্দেশ খেতে দিয়েছিল। তারপর ভাত। সেই প্রথম কোন হিন্দু বাড়ীতে আমার ভাত খাওয়া। তাও আবার নিম্ন বর্ণের হিন্দু। আমার মনে আছে পিড়িতে বসে খেয়েছিলাম। খুব যভ্ন করে আমাকে ওদের মা খাওয়াছিল। ভবতোষের মা'র সেই স্নেহমাখা আদর আপ্যায়ন আমি আজো ভুলতে পারিনি।

মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১৬

আমাকে মনে রাখিয়াছে?

জীবনের এই অস্তমিত প্রান্তে আসিয়া মনে হয় এবং বড়ো সাধ হয়, জীবনের সেই প্রথম প্রান্ত থেকে বিভিন্ন অধ্যায়ে যাহাদের সাথে বন্ধুত্ত হইয়াছিল, তাহাদের সবার সাথে যদি একবার করিয়া দেখা হইতো এই জীবনে, মনটা সত্যি অনাবিল আনন্দে ভরিয়া উঠিত। অনেকজন আছে যাহাদের সাথে ২০/৩০/৪০/৫০ বছর ধরিয়া দেখা হয়না । চোখের কোন্ চিক চিক করিয়া ওঠে। তাহারা সবাই কি আমাকে মনে রাখিয়াছে?

পায়ে হাত দিয়ে যাদের সালাম করতাম,

পায়ে হাত দিয়ে ঈদের দিনে যাদের সালাম করতাম, সেই মানুষগুলো দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। সবাই এক এক করে পরপারে চলে যাচ্ছেন। প্রথমে গেলেন বড়ো মা, তারপর গেলেন মেঝো মা। তারপর চলে গেলেন বাবা। ২০১০ সাল থেকে যেনো মৃত্যুর মিছিল। তারো আগে বড়ো ভাই,ভাবি চলে গেলেন। বড়ো খালা,মেঝো খালা চলে গেলেন তারপরে। মেঝো বুবু মারা গেল ২০১০ সালে। ২০১২ সালে প্রথম মারা গেলেন শাশুরী মা, তারপর না ফেরার দেশে চলে গেলেন আমার মা। শশুর সাহেব মারা  গিয়েছেন ২০০১ এ।
২০১৫ সালে মারা গেলেন আমার বড়ো বোন। তারপর কে যাবেন, জানিনা ।
ঈদ এলেই এইসব প্রিয় মানুষগুলোকে খুব মিছ করি। যতোদিন মা বে্ঁচে ছিল, একটা দায় ছিলো দেশের বাড়ি যাওয়ার। বাড়িতে যেয়ে মা'কে সালাম করবার। আজ মা'ও নেই। তাই দেশের বাড়ি যাওয়ার কোনো দায়ও নেই।

যা কিছু প্রথম বাবা'র হাত ধরেই

আমার যা কিছু প্রথম বাবা'র হাত ধরেই। ছোটবেলায় ঈদের মাঠে বাবা'র হাত ধরেই নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। বাবা'র হাত ধরেই প্রথম সেই প্রাথমিক স্কুলে যাওয়া । বাবা'র হাত ধরেই প্রথম নানা বাড়িতে গিয়েছিলাম। চৈত্র মাসের ছোনগাছার মেলায় গিয়েছিলাম বাবা'র হাত ধরেই। গারোদহ নদীতে নৌকা বাইছ দেখতে  গিয়েছিলাম বাবার হাত ধরে। আর ধনিদহ বিলে মাছ ধরা দেখাতে নিয়ে গিয়েছিলো বাবা আমার হাত ধরেই। প্রথম সিরাজগন্জ শহরে গিয়েছিলাম বাবা'র হাত ধরে। এমনকি ঢাকা শহরে প্রথম এসেছিলাম বাবাা'র হাত ধরে।
বাবা আজ আর নেই। ১৯৮২ সালের জুলাই মাসের ৭ তারিখে বাবা আমার হাত ছেড়ে দিয়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন।আজ সেই সাত তারিখ। আজ ঈদের দিন। বাবা নেই। আমি আমার ছেলের হাত ধরে ঈদের মাঠে যাবো।  আামরা দু'জন  বাবা'র জন্য প্রার্থনা করবো। তিনি যেন বেহেস্তবাসী হোন।আমিন।