তুমি যদি প্র্রেমহীন হয়ে থাকো, মেঘদূতের সম্ভোগের শ্লোক পড়েও যদি নির্বিকার থেকে যাও,যদি না থাকে তোমার রাগ-অনুরাগ-কস্তরীনাভি কোমলগান্ধার, যদি বিহব্বল না হয় তোমার শরীর, রক্তে শোনিতে যদি না ভেজে তোমার পড়নবাস, তাহলে তুমি আমার কবিতা পড়োনা।
বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০২১
প্রাণের হিল্লোলে এসো
রবিবার, ৩০ মে, ২০২১
এক রাজকন্যার গল্প
বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
রোড টু কুসুমপুর
শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০
হৃদয়ে আমার পৃথিবীর আলো
হৃদয়ে আমার পৃথিবীর আলো
একদিন কর্মহীন এক অলস অপরাহ্নে আত্ম পরিজনহীন আমার গৃহকোণে শুয়ে শুয়ে পড়ছিলাম শামসুর রাহমানের 'হৃদয়ে আমার পৃথিবীর আলো' থেকে এই পংক্তিগুলো --
'... তোমার মদির চোখ, গোধূলি-রঙিন গ্রীবা,/জীবন স্পন্দিত টসটসে ঠোঁট/ অর্থাৎ তোমার সৌন্দর্যে সচকিত হয়েও/ শুধু সেজন্যেই আমার অনুরাগের আংটি/ পরিয়ে দিই নি তোমার আঙুলে।
তোমার হাসি, যা হতাশাকে করে তোলে দীপান্বিতা,আমাকে নিয়ে গ্যাছে সেই ঘাটে, / যেখানে ফোটে মনোজ কহলার। / না, কেবলমাত্র সেজন্যেও
ভালোবাসি না তোমাকে।'
মধুর এক ধাক্কা খেয়ে পথচলা
মেঘের আলপথে। / একটি ভুলের কুঁড়ি বিকাশের বাঁশির তানে/ চমৎকার এক ফুল হয়ে
দুলে উঠবে সত্যের মুখোমুখি, কে জানতো?...''
***** ***** *****
( এখানে একটু বলি -- জেবার সাথে আমার পরিচয় খুব বেশি দিনের নয়। আমার এক বন্ধুর কাজিন সে। আমি বিয়ে করব, মেয়ে খুঁজছি। এই কথা জেনে আমার সেই বন্ধু বলেছিল-- আমার একটি কাজিন আছে, ইডেনে পড়ে। ট্রেডিশনাল সিস্টেমে বাংলা অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দেবে। তুমি ওকে দেখতে পারো। '
বললাম, ঠিক আছে দেখব।
ধানমন্ডির একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে আমরা তিনজন একদিন লাঞ্চ করি। ঐদিনই জেবাকে আমি প্রথম দেখি। দেখে ওকে ভালো লাগল।
আমি যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স এবং মাস্টার্স করেছি। জেবা তাই আমাকে অনুরোধ করে বলেছিল -- 'আমি মাঝে মাঝে আপনার কাছে থেকে একটু হেল্প নেব।' আমি বলেছিলাম, অবশ্যই তোমাকে প্রয়োজনীয় হেল্প করব।'
শাহবাগের পাবলিক লাইব্রেরিতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বারান্দায়, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের লনে বসে আমি এবং জেবা সাহানি একাডেমিক বিষয়ে অনেক আলোচনা করেছি, এবং জেবাকে যতটুকু পারি, টিপস্ দিয়েছি। ব্যাস, এই পর্যন্তই। কিন্তু কোনো ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়িনি কেউই।
একদিন আমার সেই বন্ধুটির সাথে আমার দেখা হয়। এবং সে বলে -- 'জেবাকে কি তোমার পছন্দ হয় ?' আমি ওকে বলি -- 'জেবা খুব ভালো মেয়ে। ওকে নিয়ে ঘর করা যায়।'
আমার সেই বন্ধুটি বলে -- 'তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি।' আমি বললাম -- কী কথা?
-- জেবার একটি বিয়ে হয়েছিল। ওদের বাসর রাতও হয়েছিল। কিন্তু সেই একটি রাতই কেবল, কিংবা একটি দিনই বিয়ে টিকেছিল। তারপরের দিনই সে বিয়ে ভেঙে যায়। দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। কী জন্য বিয়েটা ভেঙে যায়, তা জানি না। জেবা সে কথা কাউকে বলেনি কখনও।
আমি শুধু কথাগুলো শুনলাম। এবং বললাম -- আমি আমার বাড়িতে আলাপ আলোচনা করে, তোমাকে মতামত জানাব।
আমি বাড়িতে আলাপ আলোচনা করে -- আমার সেই বন্ধুকে নেগেটিভ মতামত জানিয়ে দিলাম। বললাম -- আমাদের বাড়িতে কেউই এই বিয়েতে রাজি নয়। )
***** ***** *****
জেবা বলছিল -- আপনার কবিতার খাতাটি কই? একটু দেখব। দেখি -- সর্বশেষ কোন্ কবিতাটি আপনি লিখেছেন, একটু পড়ব।
টেবিলের উপরেই আমার কবিতার খাতাটি ছিল। আমি খাতাটি জেবার হাতে দিলাম। জেবা খাতাটি হাতে নিয়ে আমার লেখা শেষ কবিতাটা পড়তে লাগল --
শনিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২০
রুপালী আলো
সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০
কংসাবতীর তীরে
সেদিনও পথে আসতে আসতে চেয়ে দেখছিলাম কংসাবতীর জল। কেমন অতৃপ্ত বিষাদ বাতাস ঝাপটার বেগে আমার দেহ মনে এসে লাগল। কেমন শীতল অনুভব হলো -- জরি আমার সব না। কেউ না। কিন্তু আমি এই কদিনে অনেক কিছু ভেবে বসলাম। জরির মতো এমন একটি মেয়েকে নিয়ে এমন ভাবনা করা ঠিক নয়। জীবনের মধুকাল তো ধরতে গেলে শুরুই হয়নি। সামনে আরও কত সময় আসবে। দেখা পাব কত কুমারী মেয়ের। কত উদ্যোত প্রস্ফুটিত সন্ধ্যামালতী ফুল ফুটে থাকবে পুষ্প কাননে। যা কিছু পাব তার গন্ধ বিলাস উপভোগ করব। তখন মনে হবে আমিই জগতের সুখী মানুষ।
বিকাল বেলা রুম থেকে বাইরে আর বের হলাম না। শুয়ে শুয়ে কাটিয়ে দিলাম সন্ধ্যা পর্যন্ত। ঘরে আলো জ্বালাতে ইচ্ছা করল না। অন্ধকারেই শুয়ে থাকলাম আরও কিছু সময়। তারপর উঠে আলো জ্বালাই। সকালের রান্না করা ভাত খেয়ে নেই। খেয়ে বিছানায় এসে আবার শুয়ে পড়ি। আজও চোখে কোনো ঘুম নেই। আজও দরজা খুলে বাইরে আসি।
নিস্তব্ধ তারাভরা রাত্রি। কংসাবতীর পাড় থেকে হু-হু হাওয়া বইয়ে আসছিল। এই রকম তারাভরা অন্ধকার আকাশের তলে দাঁড়ালে কত কথা মনে আসে। জীবনের গ্লানিগুলো মনে জাগে। আবার কত পাওয়া আঁধারে হারিয়ে যেতে থাকে। আসলে জীবন বড়োই পলাতকা। পাওয়া হয় না কোনো কিছু, যা আমি চাই।
আর একদিন যখন নয়াগাঁও যাই, পথে যেতে যেতে ভাবছিলাম, আহা! আজ যদি জরী ওর ঘোমটাখানি সরিয়ে ফেলত। তাহলে প্রাণ ভরে দেখে নিতাম ওর মুখ , স্থির শান্তদৃষ্টিতে আমার দিকে যদি একবার চাইত। ঐ সুশ্রী মুখ যে আমি এখনো মন ভরে দেখিনি। ঐ চোখ নিশ্চয়ই ডাগর কালো হবে। ঠোঁটের নীচে আলগা ভাঁজ আছে, হাসলে নিশ্চয়ই গালে টোল পড়ে। এর আগে ওকে যতটুকু দেখেছিলাম তা দূর থেকে। দেখতে না দেখতে সেই শুভ দৃষ্টি মিলিয়ে গিয়েছিল বিন্দুর মতো। জরীর বাড়ির কাছে যেয়ে ওকে খুজলাম, কিন্তু আজ সে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে নেই।
সন্ধ্যাতারায় যেয়ে দেখলাম -- জরী দূরে দাঁড়িয়ে আছে চুপচাপ। কারোর সাথে কথা বলছে না। আজও নীরবে এসে সবার আগে কিস্তির টাকা দিয়ে চলে গেল। জরীর সাথে কথা বলার তেমন সুযোগ নেই। আর বললেও মাথা থেকে ঘোমটা তো সে সরাবে না।
জরী তাড়াতাড়ি করে চলে যাওয়াতে মন ভালো লাগছিল না। সকালে আমি কোনো রান্না করে খেয়ে আসিনি। অভুক্ত ছিলাম। পেটে খুব খিদা ছিল। দ্রুত কাজ সেরে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে পড়ি। জরীর বাড়ির পাশ দিয়ে যখন আসছিলাম, তখন দেখি -- জরী পথের উপরে একটি ছোট্ট টোপলা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। টোপলাটি আমার হাতে দিয়ে বলে -- আপনার মুখটি খুব শুকনো দেখেছিলাম। এর ভিতর কিছু খাবার আছে। ঘরে গিয়ে খেয়ে নেবেন।'
আমি বললাম -- তুমি একটু ঘোমটা সরাও না জরী। তোমাকে একটু দেখি।
-- না।
-- কেন না।
-- এই মুখ আপনাকে দেখাতে লজ্জা করে।
জরি আরও বলছিল -- আমি যাই। আপনার সাথে একাকী দাঁড়িয়ে কথা বলছি, কেউ দেখে ফেললে আমার বদনামি হবে। আমার স্বামী আমাকে মারধর করবে। আপনি জানেন না, সে একটা কসাই।
ঘরে এসে টোপলাটা খুললাম। টোপলার ভিতর তেলের পিঠা, নারিকেলের কুশলি পিঠা, আর মুড়ির কয়েকটি মোয়া দেখলাম। আমার পেটে প্রচণ্ড খিদা ছিল। আমি বেশ পরিমাণ খেয়ে নিলাম।
এরই মধ্যে সন্ধ্যাতারা কেন্দ্রে আমার কাজ করা দুই মাস পূর্ণ হয়। প্রতি সপ্তাহেই জরীর সাথে কেন্দ্রে আমার দেখা হতো। ঘোমটা টেনে কোনো কথা না বলে কিস্তি দিয়ে নিঃশব্দে সে চলে যেত। আমার দিকে একটুও তাকাত না। ওর বাড়ির কাছে দিয়ে আসা যাওয়ার পথে ওকে খুঁজতাম ওর আঙিনায়। ঘোমটা টেনে মাঝে মাঝে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকত অদূরে। দেখতাম ওকে দূর থেকেই।
দুই মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে আমাকে অন্য একটি কেন্দ্রে বদলি করে। এরপর থেকে নয়াগাঁও সন্ধ্যাতারা কেন্দ্রে আমার আর যাওয়া হতো না। মনটা প্রায়ই বিষণ্ণ হয়ে থাকত। যেখানেই যাই, কেমন যেন অবসন্ন লাগত। সন্ধ্যায় ঘর থেকে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতাম কংসাবতীর তীরে। নদীর জলের দিকে তাকিয়ে বলতাম -- 'আমার সাথে তুমি একটু কথা বলো। তোমার জলে আমাকে টেনে নাও।' সেই ধূসর সন্ধ্যায় বক ও বালিহাঁসগুলো নদীর চরাচর ছেড়ে উড়ে চলে যেত গারো পাহাড়ের দিকে। হয়ত ওখানেই ওদের বাসা।ওখানেই ওদের কুলো।
কূলেই রাত্রি নেমে আসত। নদীর কোনো কথাই শোনা হতো না। আকাশ ভরা নক্ষত্রবীথি তখন জ্বলে উঠত। ফিরে আসি ঘরে। আমি কী বুঝি অত কোনো গান, কোনো সুর। জীবন মর্মরে তখন অন্য কথা বাজে --
'যে-পৃথিবী জেগে আছে, তার ঘাস—আকাশ তোমার। জীবনের স্বাদ ল’য়ে জেগে আছো, তবুও মৃত্যুর ব্যথা দিতে পারো তুমি...'।
আরও চার মাস পর ---
আমার বদলি অর্ডার আসে জেলা সদর অফিস থেকে। ইতোমধ্যে বাড়িতে আমার দাদাজানের পীড়াপীড়ি তে আমার বিবাহ ঠিক হয়ে যায়। আমার দাদা খুব অসুস্থ। মৃত্যুর আগে সে তার নাত্ বউকে দেখে যেতে চায়।
আমি শাখা অফিসে সমস্ত খাতাপত্র ও হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দেই। ব্যাবস্থাপক সাহেবকে বলি, আমার চাকুরি জীবনে প্রথম যাদেরকে নিয়ে কাজ করেছিলাম, নয়াগাঁও এর সন্ধ্যাতারার সেই মেয়েগুলোর কাছ থেকে একটু বিদায় নিয়ে আসতে চাই। উনি আমাকে অনুমতি দিলেন এবং বললেন -- 'যান, দেখা করে আসেন নুরজাহান, নুরী, নসিরন ও জরিনাদের সাথে।'
আমি আজও গেলাম নয়াগাঁও-এ সেই প্রথম দিনের মতো কংসাবতীর তীর ধরে একাকী হেঁটে হেঁটে। যেদিন প্রথম যাই -- সেদিন ছিল হেমন্তের রোদ্দুর। আজ চৈত্রের দুপুর। সেদিন মাঠ ভরা ছিল সরিষা ফুলের হলুুদ প্রান্তর। আজ ধুঁ-ধূঁ বিস্তীর্ণ খালি মাঠ। সেদিন ছিল কংসাবতীতে ভরা জল, আজ সেখানে স্বল্প পাথুরে পানি , বালি আর নুড়ি ।
পথের পাশে বৃক্ষগুলির পাতা চৌচির হয়ে ঝরে পড়ছে। ধুলো উড়ছে। পাখিদের সুমধুর গান নেই। কংসাবতীর জলে ঠোঁট চুবিয়ে জল খাচ্ছে তৃষিত কয়েকটি বক ও পানকৌড়ি। রুক্ষ বাতাস এসে লাগছিল আমার গায়ে। একসময় প্রাচীন সেই বটবৃক্ষ তলে এসে দাঁড়াই। আজ আর কোনো গায়েন নেই এখানে। একটু জিরিয়ে আবার নয়াগাঁও এর দিকে হাঁটতে থাকি।
একসময় নয়াগাঁও-এ জরীদের বাড়ির কাছে চলে আসি। কংসাবতীর তীরে যে ঘাটে জরী সেদিন স্নান করেছিল, সেখানে এসে দাঁড়াই। আজ আর সেখানে জরী স্নানরত নেই। কিন্তু আমার মানসপটে দেখতে পাচ্ছিলাম, সেদিনকার সেই স্বর্গীয় দৃশ্য ! একটি পল্লীবালা, যার দেহবল্লরী ছিল এই কংসাবতী নদীর মতো উচ্ছলা, স্বচ্ছ জলের ঢেউ আছরে পড়ছিল যেন শরীরের বাঁকে। আজও কম্পিত হলাম কিছু মুহূর্তের জন্য । চোখ ফিরিয়ে আনলাম কংসাবতীর জল থেকে।
আমি জরীর বাড়ির দিকে হাঁটতে থাকি। ওর বাড়ির আঙিনায় যেয়ে দেখতে পাই ওর ছেলেটাকে। ওকে বলি -- 'তোমার মাকে একটু ডেকে নিয়ে আসো। যেয়ে বলো -- তোমার স্যার এসেছে।'
জরী ঘর থেকে বের হয়ে আসে। আজকেও সে ঘোমটা টেনে আমার কাছে এসে দাঁড়ায়। আমি জরীকে ডাকি -- জরী।
-- জ্বী।
-- কেমন আছো তুমি?
-- ভালো।
-- জরী...
-- বলেন।
-- আমার বদলি হয়েছে, আগামীকালই চলে যাচ্ছি এখান থেকে।
-- আর আসবেন না?
-- না।
জরী কেমন যেন স্তব্ধ হয়ে গেল। কেমন যেন স্থির, এবং নির্বাক। কথা বের হচ্ছিল না মুখ থেকে। আমি আবার ওকে ডাকি -- জরী...
জরী কথা বলছে না।
আমি জরীকে বললাম -- 'আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তোমাদের সবাইকে আমি নিমন্ত্রণ করব। তুমি যাবে না আমার বিয়েতে? '
জরী এবার মাথা থেকে ঘোমটা সরিয়ে আমার দিকে তাকায়। আমি খুব কাছে থেকে দেখলাম তার বিষাদস্নাত ম্লান মুখ ও চোখ। দেখলাম, ওর চোখ দুটো জলে ভরে আছে ! কংসাবতীর জলের মতো সেই জল স্বচ্ছ ও নির্মল।
পরিশিষ্ট --
আমার সেই অল্প বয়সের জীবনঅধ্যায় শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। সেই জীবনের প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির কথা ভেবে এখনকার জীবনেও অবসাদ নামে। হঠাৎই মন কেমন করে ওঠে। হারানো মধুময় কোনো দৃশ্য কখনোই আর দেখতে পাব না। সেই সবের জন্যে আক্ষেপও নেই। মহাকালের বীথিপথের দিকে চোখ মেলে দেখব -- কংসাবতীর তীরে এক পল্লী রমণী হাঁটছে ফিরছে, জলের দিকে অনিমেষ তাকিয়ে আছে। দক্ষিণা শীতল হাওয়া এসে তার শরীরে লাগছে, তার মাথার চুল উড়ছে।
আমি যা পেয়েছিলাম, তা সত্য। আবার হয়ত কখনও পাব তা, এটি আশা। পেলেও তা আবার ফুরিয়ে যাবে, এটা অমোঘ ।
~ কোয়েল তালুকদার