বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৬

সুরের কোমলগান্ধার

 তোমার সকল অস্তিত্তগুলো আমার মাঝে উঞ্চতায় ধরা দেয় বারবার
তোমার উষ্ণতায় সূর্য জ্বলে ৃপ্রেম জ্বলে আগুনে পুড়ে হয় সব ছারখার
তুমি ভস্ম হও ভস্মতায় হিমালয় পোড়াও,থাকেনা কোনো শূভ্র তুষার
তুমি শুচি হও,শূচিতে অন্তর বাজাও,সুরে ভরে ওঠে ঐ কোমলগান্ধার।

জগতে আনন্দ যতো

তুমি ভালবাসলেই আমার স্বপ্নগুলো পেম হয়
আমার প্রেমগুলো তখন  তোমার স্বপ্ন হয়ে যায়                                                                                                        
তুমি থাকলে জগতে আনন্দ হয় যতো
তুমি না থাকলে জগতে দুঃখ বেদনা ততো

তুমি আমার থাকলেই আমি বে্ঁচে থাকি
তুমি না থাকলে তখন আমি মরণকে ডাকি।

আমি ভালোবাসলে

আমি ভালোবাসলে ভালোবাসা হয়
না বাসলে হয়না
আমি চাইলে তুমি আমার হও
না চাইলে হওনা
আমি স্বপ্ন দেখলেই তুমি স্বপ্ন দেখো
না দেখলে দেখোনা
স্বপ্ন ঝালরে তোমাকে বা্ঁধলেই তুমি বে্ঁধে থাকো
না বা্ঁধলে বাধো্ঁনা
দুঃখ বেদনা নৈরাশ্য তোমাকে দিলেই নাও
না দিলে নাওনা
জীবন তোমার মাঝেই থেমে যেতে চায়
তবে তাই থেমে যাকনা
তুমি আর আমি আর আমাদের প্রেম
চির অমরতা পাকনা।


পদ্মকমল

আমি না থাকলে তুমি জলে ভিজে হয়ে থাকো পদ্মকমল
যেদিন বৃস্টি থাকেনা সেদিন কোথা পাও এতো জল
জলে ভেজে পদ্ম পাতা জলে ভেজে তোমার চোখ
আমি না থাকলে কে্ঁদে প্রকাশিত করো যতো শোক
জল থাকুক আর বৃস্টি না ঝরুক তুমি হয়ে থাকো পদ্মকমল
যখন জলও থাকেনা বৃস্টিও ঝরেনা তখন কোথায় পাও অশ্রুজল।

গোপন দীর্ঘশ্বাস

আজ এই ধূসর সন্ধ্যায় মন কেমন যেন বিষন্ন হয়ে উঠলো।কি ভেবে এই মন খারাপ হওয়া বুঝতে পারছিনা।সুখের আতিশয্যে তো জীবন চলছে, তবে কেন এই বিষাদ,কেন এই বিষন্নতা ! অতীতের কোনো গ্লানি কিংবা কোনো কিছু না পাওয়ার আর্তি নেইতো ? যা গোপনে এই ধূসর সন্ধ্যায় দীর্ঘশ্বাস হয়ে ঝরে পড়ছে। 

প্রেমময় কবিতা

প্রথমে যে চোখ দেখেছিলাম সে চোখে কাজল ছিলো না
তোমার কাজল কালো চোখ আমার চাহনী কেড়ে নিয়েছিলো
দেখেছিলাম ভ্রূ-যুগল যেনো দ্বিতীয়ার চাঁদ হয়ে ঝুলে আছে
দেখেছিলাম তোমার মেঘবরণ চুল
যে চুলে কালো মেঘের  জল ঝরতো অনবরত
তোমার ঠো্ঁট সব সময় হলুদ গা্ঁদা ফুল হয়ে থাকতো
আমি নিঃশ্বাসে তার সুবাস নিতাম
 আমার ঠো্ঁট তখন কে্ঁপে উঠতো
তোমার পরনে শাড়ি ঝিলমিল করে উড়তো বাতাসে
আমি দেখতাম নদীর বা্ঁকের মতো ভরা শরীর তোমার
তোমার আ্ঁচল উড়তো দমকা হাওয়ায় অসভ্যতায়
আমার চোখ তখন গিরিশৃঙ্গে আটকে যেতো
সন্ধ্যার নীল নীল আলোয় তূমি শরীরে সুবাস ছড়াতে
প্রজাপতি মাতাল হতো তখন মহুয়া বনে
আকাশের সব মেঘ হিম হয় আসতো
সব বৃস্টি ঝরে পড়তো তোমার শরীরের উপরে।


মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৬

ঝরা পাতার গান

আজ খুব ভোরবেলায় ঘুম ভেঙ্গে যায়।সূর্য তখনো ওঠে নাই।কম্পিউটারে বসে ফেসবুকে নিউজ ফিডগুলো দেখছিলাম।হঠাৎ বন্ধু নেয়ামুলের টাইমলাইনে রবীন্দ্র সঙ্গীতের একটি অডিও ক্লিপের উপর চোখ স্থির হয়ে যায়।অনেক বৎসর আগে এক চৈত্রের পাতা ঝরা দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুকুরপাড়ে বসে এই গানটি গেয়ে শোনায়েছিলো একটি মেয়ে। জীবনের পাদপ্রদীপের আলোয় সে মেয়ে আজ আর নেই।সেই গান সেই ভালোলাগার মুহূর্তগুলোও বিস্মৃত হয়ে গেছে । আমি অডিও ক্লিপটা অন্ করলাম, শুনলাম সেই গানটি-
"তুমি রবে নীরবে হৃদয়ে মম. নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম॥ মম জীবন যৌবন মম অখিল ভুবন. তুমি ভরিবে গৌরবে নিশীথিনী-সম॥ জাগিবে একাকী তব করুণ আঁখি,তব অঞ্চলছায়া মোরে রহিবে ঢাকি। মম দুঃখবেদন মম সফল স্বপন. তুমি ভরিবে সৌরভে নিশীথিনী-সম॥"
গানটি শুনতে শুনতে চোখ চলে যায়- সেদিনের সেই  উদ্যানের পুকুরপাড়ে। চৌচির করছে গাছগাছালি, খা্ঁখা্ঁ করছে রোদ্দুর। তপ্ত হাওয়ায় কড়ই গাছটি থেকে জীর্ণ পাতাগুলি ঝরে পড়ছে।